কন্টেন্ট রাইটিং কিভাবে শুরু করবেন?

আমি নিজেও খুব বেশি ভাল রাইটিং করতে পরি তা নয়, আমার যতটুকু প্রয়জন লিখতে পারি, আবার এমনটা নয় যে অনেক খারাপ লিখি । তাছাড়া ৩ বছর ধরে ক্লায়েন্ট এর সার্ভিস ও দিচ্ছি । ব্যাস্ততার জন্য অনেকদিন কোন ক্লাইন্টের কাজ ই করিনি। তবে আজকে পোষ্টে, আমার রাইটিং শুরু করা নিয়ে যতটুকু ধারনা এবং আমি কিভাবে শুরু করেছিলাম তা শেয়ার করবো) এবং কন্টেন্ট রাইটিং কিভাবে শুরু করবেন ।

আমরা যারা আমাজন এফিলিয়েট বা এইও নিয়ে কাজ করি, যদি নিজের একটা ওয়েবসাইট নিয়ে এফিলিয়েট বা ব্লাগিং শুরু করতে যায়। আমারা, নতুন বা বিশেষ করে স্টুর্ডেন্ট রা যে সমস্যায় বেশি সম্মুখীন হই, সেটা হলো কন্টেন্ট রাইটিং বা কন্টেন্ট কেনা নিয়ে। কারন স্টুর্ডেন্ট দের ইনভেষ্টের বিশাল একটা সমস্যা থাকে, তাছাড়া এইও শিখে, মার্কেট প্লেসে নতুন অবস্থায় ক্লাইন্টের কাজ পাওয়া টাফ হয়ে যায়, যার ফলে আমরা ইনভেষ্ট বের করতে পারিনা।

তাছাড়া, মার্কেট প্লেসে একজন রাইটারের ডিমান্ড অনেক, ( যদি মোটামুটি রাইটিং করতে পারেন ) | তাই কন্টেন্ট রাইটিং শেখা বা শুরু করে দেয়া টা এখন সময়ের দাবি।

কন্টেন্ট রাইটিং কিভাবে শুরু করবেন বিস্তারিত গাইডলাইন |

আপনি যখন রাইটিং শুরু করবেন বা প্রাক্টিস শুরু করবেন,

  • আপনার রাইটিং খুব বাজে হবে
  • ৫০০ ওয়ার্ড ই লিখতে একদিন পার হয়ে যাবে,
  • মাথায় কোন আইডিয়া আসবে না,
  • অনেকে অনেক কথা বলবে।

তাতে ভেঙ্গে পড়ার কিছু নেই, আপনি যদি টিকে থাকতে পারেন তবে আপনি ই বাংলাদেশ। কারন মায়ের পেট থেকে কেও কিছু শিখে আসেনা

প্রথমত : আমাদের, রাইটিং করতে যেয়ে সবথেকে বড় ভয় যেটা, ইংরেজি গ্রামার।

আপনি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি গ্রামার পরেছেন বা শিখেছেন পরিক্ষা ভাল রেজাল্ট করার জন্য। যা, পরিক্ষার আগে গিলেছেন, আর পরিক্ষার খাতায় বমি করেছেন। তার পর পেট থেকে সব শুন্য হয়ে গেছে ( সবার ক্ষেত্রে বলছি না)

যার মধ্যে কোন মজা পাননি, শুধু বোরিং আর পেরা হিসাবে নিছেন। কিন্তু আগের সব কিচু বাদ, নতুন করে শুরু করতে হবে, দেখবেন জিবনের প্রয়জনে যা শিখবেন তাতে আপনি মজা পাবেন। আপনি যখন রাইটিং করার উদ্দেশে গ্রামার শেখা শুরু করবেন। দেখবেন আপনি কত সহজে সব আয়ত্ত করতে পারছেন।

আপনি বলতে পারেন, আমি তো বাংলা গ্রামার পারিনা, তাই বলে কি বাংলা লিখতে পারিনা। তাহলে আমার ইংরেজি গ্রামার শেখা প্রয়জন কেন?

বা, কতটুকু শেখা প্রয়জন?

প্রয়জন কারন, আপনি জন্মের পর থেকে ইংরেজি শুনেন নি বা শিখেন নি, বা কথা বলেন নি। আপনি শিখেছেন শুরু রেজাল্টের জন্য। তাই, আপনাকে বাক্য গঠন করতে যতটুকু গ্রামার প্রয়জন জানতে হবে।

আর, ইংরেজি শব্দ বা অর্থ মুখুস্ত করা নিয়ে প্রেসার নিতে হবেনা, যখন আপনি রাইটিং করবেন বা অন্যদের লেখা পড়বেন, এক কথায় প্রাকটিস করতে থাকবেন, আপনার মাক্সিমাম ইংরেজি শব্দ আয়ত্ত হয়ে যাবে। ( কারন জিবনের প্রয়জনে, আর পরিক্ষার প্রয়জন ২ টা অনেক পার্থক্য)

এখনে অনেকে ভাবে, সফটওয়্যার তো আছে গ্রামার সব ঠিক করে দিবে। সফটওয়্যার ঠিক ই ভুল যাওয়ার গ্রামার ঠিক করে দিবে, দেখবেন যে গ্রামার সব ঠিক আছে, তবে আপনার ইংরেজি বাক্যেক অর্থ অন্য রকম হয়ে গেছে। কারণ সফটওয়ারের কাজ, গ্রামার ঠিক করা, বানান ঠিক করা, অর্থ কি দাড়ালো সেটা তো সে জানেনা, সে তো আর মানুষ না।

সে দেখবে, গ্রামার আর বানান। তাই সফটওয়্যার এর ওপর সম্পুন্ন ভরসা করে রাইটিং করার থেকে, আটিকেল স্পিন করেন, তাতে সময় বেচে যাবে।

ইংরেজি গ্রামারের জন্য, যেটা করতে পারেন প্লে স্টোরে এপস আছে, ইনস্টল করে, অবসার টাইমে যখন বসে থাকেন বা ফেসবুক চালান বা ঘুমানোর আগে যখন ফোন চাপেন ঐ সময় গুলা, ঐ এপসে গ্রামার শেখার পিছনে ব্যায় করবেন |

এটানে, শেখা এবং প্রাক্টিস এবং টেষ্ট এক্সামের সুযোগ আছে)

দ্বিতীয়ত: আপনি আমরা যারা নেটিভ বাঙ্গালী, আমরা তো সবাই নিভূল বাংলা লিখতে পারি, তাই বলে সবাই কি হাই কোয়ালিটি রাইটিং করতে পারি?

রাইটিং করার জন্য নিভূল ইংরেজি যতটা গুরুত্বপূর্ন তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, একটা বিষয় কে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার গুন টা। রাইটিং এর ভিতর প্রফেশনালিজম কে ফুটিয়ে তোলা। তার জন্য যেটা, করতে হবে, আপনি যে টপিকস নিয়ে লিখতে চান বা কাজ শুরু করতে চান, অথরিটি সাইট গুলার আটিকেল, প্রতিনিয়ত পড়তে থাকেন।

তাদের লেখার প্যাটার্ন, স্টাইল এগুলা ফলো করেন। প্রতিদিন, ৪-৫ টা অন্যদের কন্টেন্ট খুব ভাল করে পড়ার চেষ্ট করেন, প্রথমে অন্যদের লেখা সম্পুন্ন বুঝতে পারবেন না। যতটুকু বুঝবেন, ততটুকু লাভ।

নতুন রা, বুঝে উঠে পারেনা, কোন সাইট কে ফলো করবো, কোন সাইটের আটিকেল পড়বো। আপনি যদি কিওয়ার্ড রিসার্চের আগের পর্ব গুলা পড়ে থাকেন বুঝে গেছেন অথরিটি সাইট কারা, তাই আপনি একটা হাই সার্চ ভলিউম কিওয়ার্ড গুগলে সার্চ করে যে, সাইট গুলা কে সামনে পাবেন, যাদের অর্গানিক ট্রাফিক অনেক বেশি, তাদের লেখা ফলো করুন।

শুধু মাত্র, একটা সাইটকে ফলো করবেন না। প্রতিদিন, ১০০-২০০ ওয়ার্ড করে করে লেখা প্রাক্টিস করেন। আস্তে আস্তে, বাড়াতে থাকেন।

প্রথমে আপনি বেশি লিখতে পারবেন না, এক লাইন লিখতে গেলে অনেক সময় চলে যাবে। তাতে ভয় পাওয়ার কিচু নেই। যতটুকু পারুন লিখুন।

আপনি, কয়দিন প্রাকটিস করে ই, কয় লাইন লিখে গ্রুফে পোষ্ট দিলেন, আমার লেখা কেমন। তাতে, এক্সপার্টদের মতামত শুনে আপনি উল্টো ভেঙ্গে পড়বেন। নিজের রাইটিং যখন নিজে বিচার করতে পারবেন, মনে করবেন, আমি এখন ভাল লিখতে পারি।

তাহলে এতখন যা বললাম ছোট্ট করে রিভিশন করি।

১. ইংরেজি গ্রামার শেখা শুরু করা।

২. অন্যদের লেখা বেশি বেশি পড়া, লেখার স্টাইল প্যাটার্ন ফ্লো করা। যতটুকু বোঝা যায় বোঝার চেষ্ট করা।

৩. প্রতিদিন, ৫০, ১০০, ২০০, ৩০০, ৪০০, ৫০০ যতটুকু ওয়ার্ড লিখতে পারেন চেষ্টা করা।

৪. নিজের ওপর কনফিডেন্স রাখা, ধন্যবাদ।

পরের পর্বে রাইটিং নিয়ে নুতন কোন টিপস শেয়ার করবো।

আগের পর্ব গুলা পড়ার আমন্ত্রন রইলো, আর পোষ্টি ভাল না লাগলে ইগনোর করবেন। ভাল লাগলে, শেয়ার দিতে পারেন।

Leave a Comment